ক্যাম্পাস

দেশে উচ্চ ফলনশীল নতুন জাতের চেরি টমেটো

দেশীয় আবহাওয়ায় চাষাবাদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন জাতের চেরি টমেটোর সফল অভিযোজন সম্পন্ন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক।

গবেষকদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. জামাল উদ্দিন। গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও যুক্ত ছিলেন একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রাহুল শেখ ও রাকিবুজ্জামান মনি।

জানা গেছে, এ চেরি টমেটোর জাতটি জাপানে বেশ জনপ্রিয়। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় বীজ বোর্ড এ নতুন জাতের প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেছে। সেই অনুযায়ী জাতটির নাম গোল্ডেন পূর্ণা (সাউ চেরি টমেটো)। ২০১৪ সাল থেকে এ জাতের বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষাবাদের উপযোগী করে গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

গবেষকদের দাবি, দেশে উদ্ভাবিত অপর জাতগুলোর চেয়ে এই জাতের ফলন বেশি। সাধারণ টমেটোর চেয়ে প্রায় দুই মাস বেশি সময় ফল দেবে এই জাত। গায়ের রঙ হলুদ এবং আকৃতি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য জাতগুলোর চেয়ে বেশি। হাইব্রিড প্রকৃতির না হওয়ায় কৃষক নিজেই বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবে। উৎপাদিত চারা ও মাতৃ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অনুরূপ থাকে। চারা লাগানোর পর ৩০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল ধরে। সাধারণত গাছ ২ মিটারের বেশি লম্বা হয়ে থাকে। প্রতিটি গাছে ৭-৮টি থোকা বের হয়। প্রতি থোকায় ২৪৫-২৫৫টি ফল ধরে। প্রতিটির ওজন হয় ৫-৬ গ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন হয় ১৬০-১৬৫ টন। প্রতি হেক্টর জমিতে ২২ হাজার থেকে ২৪ হাজার চারা রোপণ করতে হয়। বেলে দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন পাওয়া যায়। চারা বপনের উপযুক্ত সময় অক্টোবর-নভেম্বর মাস। পর্যাপ্ত জৈব সার প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, পাতলা চামড়ার এ জাতের টমেটো মিষ্টি ও রসালো এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। কৃষক পর্যায়ে বিনামূল্যে জাতটি ছড়িয়ে দিতে আগামী বছর থেকেই কাজ শুরু করা হবে। আশা করি সরকারি সহযোগিতা পেলে এ জাতটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close