আন্তর্জাতিক

ইরাক থেকে সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে কানাডা

ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বাগদাদ থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। বুধবার ইরানের হামলার পর কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল জোনাথন ভ্যান্স এক টুইট বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইরাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কানাডার নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান জোনাথন ভ্যান্স। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সৈন্য মোতায়েন রেখেছিল কানাডা।

মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আক্রান্ত হওয়ার পর কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধান জোনাথন ভ্যান্স টুইট বার্তায় বলেছেন, সতর্কতা হিসেবে ইরাক থেকে সাময়িকভাবে ৫০০ সৈন্য কুয়েতে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আমরা ইরাক পরিস্থিতি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করছি। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। ইরাকে প্রায় ৪০০ ব্রিটিশ সৈন্য আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।

এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান তীব্র উত্তেজনায় ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি ও সামরিক হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বুধবার মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, এই অঞ্চলে কোনো ধরনের যুদ্ধ কিংবা উত্তজনা চায় না তেহরান। আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে বলেছেন, অল ইজ ওয়েল। ইরাকে অবস্থিত দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এখন ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের তথ্য মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, ভালো হয়েছে! বিশ্বের যে কোনও স্থানে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী আছে!

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালের দিকে তিনি ইরানের এই হামলার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন বলে টুইটে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল বলছে, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আইন আল আসাদ এবং কুর্দিস্তানের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালালে দেশটির মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও ইসরায়েলের হাইফায় বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিদেশি সশস্ত্র শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইরানি শীর্ষ এই সেনা জেনারেল হত্যাকাণ্ড ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাজছে যুদ্ধের দামামা। এর মাঝেই বুধবার ইরাকে মার্কিন দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close