জাতীয়

ইজতেমা শুরু কাল, টঙ্গীতে মুসল্লিদের ঢল

টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামীকাল শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব। রহমত-বরকতের আশায় তুরাগ তীরে আসছেন ৬৪ জেলার মুসল্লিরা। ইতিমধ্যে ইজতেমা প্রাঙ্গণ হাজারো মুসল্লির জিকির-আজগারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও শীত উপেক্ষা করে হাজির হয়েছেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ।

ইজতেমার আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইজতেমা মাঠকে ৯২টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। মুসল্লিদের চাপ বেশি হলে তাদের জন্য ৫টি খিত্তা আলাদা রাখা হয়েছে। ১০ জানুয়ারির ১ম পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন মাওলানা জুবায়েরপন্থিরা। আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ১২ জানুয়ারি শেষ হবে ১ম পর্ব

চারদিনের বিরতি শেষে ১৭ জানুয়ারি সাদপন্থিদের নিয়ে শুরু হবে ইজতেমার ২য় পর্ব। ১৯ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ইজতেমা।

মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হওয়া ইজতেমার পর মুসল্লিরা দেশের বিভিন্ন অংশে ইসলাম প্রচারের জন্য ছড়িয়ে পড়বেন। জেলায় জেলায় গিয়ে মানুষকে ভালো কাজের দাওয়াত দিবেন।

ইতিমধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জুবায়েরপন্থি ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো ময়দান সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা অংশ নেবেন। তাদের জন্য মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে থাকার জায়গা করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তুরাগ তীরে ১৯৬৩ সাল থেকে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের ৫৫তম ইজতেমা হচ্ছে ২ পর্বে। মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১০ সাল থেকে মানুষের চাপ কমাতে দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।

ইজতেমা প্রাঙ্গণে তিন-চারদিন এবং মোনাজাত শেষে অনেকেই চলে যাবেন চিল্লায়। তাই হাতে তজবির পাশাপাশি মাথায় থাকা-খাওয়ার সরঞ্জাম।

ইজতেমার প্রথম পর্বে মুসুল্লিরা যেসব খিত্তায় থাকবেন সেগুলো হচ্ছে- ১ নম্বর খিত্তায় গাজীপুর, ২ নম্বর খিত্তায় টঙ্গী-১, ৩ নম্বর খিত্তায় টঙ্গী-২, ৪ নম্বর খিত্তায় টঙ্গী-৩, ৫ নম্বর খিত্তায় মিরপুর-১, ৬ নম্বর খিত্তায় মিরপুর-২, ৭ নম্বর খিত্তায় সাভার-১, ৮ নম্বর খিত্তায় সাভার-২, ৯ নম্বর খিত্তায় মোহাম্মদপুর, ১০ নম্বর খিত্তায় কাকরাইল-৩, ১১ নম্বর খিত্তায় কেরানীগঞ্জ-১, ১২ নম্বর খিত্তায় কেরানীগঞ্জ-২, ১৩ নম্বর খিত্তায় কাকরাইল-১, ১৪ নম্বর খিত্তায় কাকরাইল-২, ১৫ (ক) খিত্তায় ডেমরা, ১৫ (খ) নম্বর খিত্তা (সংরক্ষিত খিত্তা), ১৬ নম্বর খিত্তায় কাকরাইল-৪, ১৭ নম্বর খিত্তায় কাকরাইল-৫, ১৮ নম্বর খিত্তায় কাকরাইল-৬, ১৯ নম্বর খিত্তায় কাকরাইল-৭, ২০ নম্বর খিত্তায় রাজশাহী, ২১ নম্বর খিত্তায় নওগাঁ, ২২ নম্বর খিত্তায় নাটোর, ২৩ নম্বর খিত্তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২৪ নম্বর খিত্তায় যাত্রাবাড়ী-২, ২৫ নম্বর খিত্তায় যাত্রাবাড়ী-১, ২৬ নম্বর খিত্তায় সিরাজগঞ্জ, ২৭ নম্বর খিত্তায় দোহার, ২৮ নম্বর খিত্তায় নবাবগঞ্জ, ২৯ নম্বর খিত্তায় মানিকগঞ্জ, ৩০ নম্বর খিত্তায় টাঙ্গাইল, ৩১ নম্বর খিত্তায় নড়াইল, ৩২ নম্বর খিত্তায় ধামরাই, ৩৩ নম্বর খিত্তায় রংপুর, ৩৪ নম্বর খিত্তায় নীলফামারী, ৩৫ নম্বর খিত্তায় কুড়িগ্রাম, ৩৬ নম্বর খিত্তায় লালমনিরহাট, ৩৭ নম্বর খিত্তায় গাইবান্ধা, ৩৮ নম্বর খিত্তায় মুন্সীগঞ্জ, ৩৯ নম্বর খিত্তায় মাগুরা, ৪০ নম্বর খিত্তায় ঝিনাইদহ, ৪১ নম্বর খিত্তায় বগুড়া, ৪২ নম্বর খিত্তায় নারায়ণগঞ্জ, ৪৩ নম্বর খিত্তায় ফরিদপুর, ৪৪ নম্বর খিত্তায় যশোর, ৪৫ নম্বর খিত্তায় সাতক্ষীরা, ৪৬ নম্বর খিত্তায় বাগেরহাট, ৪৭ নম্বর খিত্তায় নরসিংদী, ৪৮ নম্বর খিত্তায় ভোলা, ৪৯ নম্বর খিত্তায় জামালপুর, ৫০ নম্বর খিত্তায় ময়মনসিংহ-১, ৫১ নম্বর খিত্তায় ময়মনসিংহ-২, ৫২ নম্বর খিত্তায় মেহেরপুর, ৫৩ নম্বর খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা, ৫৪ নম্বর খিত্তায় নেত্রকোনা, ৫৫ নম্বর খিত্তায় কিশোরগঞ্জ, ৫৬ নম্বর খিত্তায় গোপালগঞ্জ, ৫৭ নম্বর খিত্তায় বরিশাল, ৫৮ নম্বর খিত্তায় রাজবাড়ি, ৫৯ নম্বর খিত্তায় শেরপুর, ৬০ নম্বর খিত্তায় শরিয়তপুর, ৬১ নম্বর খিত্তায় মাদারীপুর, ৬২ নম্বর খিত্তায় সিলেট, ৬৩ নম্বর খিত্তায় কক্সবাজার, ৬৪ নম্বর খিত্তায় রাঙ্গামাটি, ৬৫ নম্বর খিত্তায় খাগরাছড়ি, ৬৬ নম্বর খিত্তায় বান্দরবান, ৬৭ নম্বর খিত্তায় ফেনী, ৬৮ নম্বর খিত্তায় নোয়াখালী, ৬৯ নম্বর খিত্তায় লক্ষীপুর, ৭০ নম্বর খিত্তায় চাঁদপুর, ৭১ নম্বর খিত্তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৭২ নম্বর খিত্তায় খুলনা, ৭৩ নম্বর খিত্তায় পটুয়াখালী, ৭৪ নম্বর খিত্তায় বরগুনা, ৭৫ নম্বর খিত্তায় চট্টগ্রাম, ৭৬ নম্বর খিত্তায় কুমিল্লা, ৭৭ নম্বর খিত্তায় পিরোজপুর, ৭৮ নম্বর খিত্তায় ঝালকাঠি, ৭৯ নম্বর খিত্তায় সুনামগঞ্জ, ৮০ নম্বর খিত্তায় হবিগঞ্জ, ৮১ নম্বর খিত্তায় মৌলভীবাজার, ৮২ নম্বর খিত্তায় পাবনা, ৮৩ নম্বর খিত্তায় ঠাকুরগাঁও, ৮৪ নম্বর খিত্তায় পঞ্চগড়, ৮৫ নম্বর খিত্তায় দিনাজপুর, ৮৬ নম্বর খিত্তায় জয়পুরহাট এবং ৮৭ নম্বর খিত্তায় কুষ্টিয়া। ৮৮ নম্বর থেকে ৯২ নম্বর খিত্তা সংরক্ষিত থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close