মুক্তমত

প্রবাসীর প্রত্যাবর্তন ও প্রবাসী দিবস

সৌমিত জয়দ্বীপ:  ১০ জানুয়ারিকে শুধু ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে’ আটকে না ফেলে, আরেকটু সদূরপ্রসারী চিন্তা করার আহবান জানাই বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের। এই দিবসকে ‘প্রবাসী বাংলাদেশি দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাব জানাই। এতে করে সম্ভবত বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনকে নতুন জমানায় একদম গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে এবং দিবসটির একটি নতুন কার্যকরণ সৃষ্টি হবে। এক জায়গায় আটকে থেকে, শুধু স্মরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে হয়তো এ দিবসটিকে কেন্দ্র করে বেশিদূর যাওয়া যাবে না। কথা বিস্তারিত বলার আগে, এই চিন্তাটার পাঠসূত্র কোথা থেকে এলো সেটা একটু পাঠকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই।

১৯১৫ সালের ৯ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতবর্ষে ফিরেছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। সেই প্রত্যাবর্তন স্মরণে প্রতি বছর পালিত হয় ‘ইন্ডিয়ান ডায়াসপোরা ডে’ বা ‘প্রবাসী ভারতীয় দিবস’। আর প্রতি দু’ বছর অন্তর রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হয় তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠান। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় প্রবাসীরা মিলিত হন এই উদ্দেশ্যপূর্ণ পুনর্মিলনীতে, গান্ধীর স্মরণে। ২০১৬ সালে ভারতে আসার পর আমার সুযোগ হয়েছিল ২০১৭ ও ২০১৯ সালের প্রবাসী ভারতীয় দিবসে অংশগ্রহণের। গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি যে বিভাগে গবেষণা ও শিক্ষকতা করছি তার নাম ‘ডায়াসপোরা ও মাইগ্রেশন স্টাডিস’ বিভাগ। ডায়াসপোরা বিভাগের একজন গবেষক হিসেবে তাই আমন্ত্রণ মিলেছিল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের। সে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতার আলোকেই মূলত এই লেখাটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

গান্ধীকে ভারত ‘দ্য গ্রেটেস্ট ইন্ডিয়ান ডায়াসপোরা’ হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। সম্ভবত, তাদের ‘ফাদার অব দ্য নেশন’ বা ‘রাষ্ট্রপিতা’র ‘পলিটিক্যাল জার্নি’কে আরও ‘গ্লোরিভাই’ করার জন্যই তার নামের সঙ্গে তারা এই পরিচয়টি জুড়ে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, হিন্দিতে, নেশনকে এরা রাষ্ট্র বলে, ন্যাশনালিজমকে বলে রাষ্ট্রীয়তাবাদ; যে কারণে ‘ফাদার অব দ্য নেশন’কে আমাদের মতো এরা ‘জাতির পিতা’ বলে না, বলে ‘রাষ্ট্রপিতা’।

কোনটি সঠিক, এটা নিয়ে সুস্থ বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু এখানে সে আলাপ প্রাসঙ্গিক নয়। তবে, শুরুতে যখন আমি গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাম, তখন এদের এই টার্ম নিয়ে আমাকে খুব ভুগতে হয়েছে। আমার তত্ত্বাবধায়ক প্রতিটি আলাপে ন্যাশনালিজম বলতে রাষ্ট্রীয়তাবাদ বোঝাচ্ছেন, আর আমি জাতীয়তাবাদ বুঝছি! আগে যে ন্যাশন অর্থ ‘রাষ্ট্র’ বুঝিনি, এমন নয়। পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকাগুলো বা টিভি চ্যানেলগুলো ‘ইউনাইটেড ন্যাশন্স’কে ‘রাষ্ট্রসংঘ’ বা ‘রাষ্ট্রপুঞ্জ’ বলে। কিন্তু, তখন যেহেতু ব্যক্তিগত ব্যবহারের মুখোমুখি হতে হয়নি, তাই গভীরভাবে ভাবিনি। এখন, রাষ্ট্র বনাম জাতির খপ্পরে পড়ে গেছি! তবে, কেউ যদি আমাকে এখন ভোট দিতে বলেন, তাহলে যুক্তিযুক্তভাবেই ‘ফাদার অব দ্য নেশনে’র তর্জমা হিসেবে ‘রাষ্ট্রপিতা’ আর ‘ইউনাইটেড ন্যাশন্সে’র তর্জমা হিসেবে ‘রাষ্ট্রসংঘে’র পক্ষে রায় দেব।

২.

মূল কথায় আসি। আমার এক গবেষণায় (লিংক লেখার শেষে) আমি আলোকপাত করেছি এই বলে যে, বঙ্গবন্ধুও আসলে বাংলাদেশের ‘গ্রেটেস্ট ডায়াসপোরা’। আমরা আদতে সেটা প্রচার করে বিশ্বকে জানাতে পারিনি। কীভাবে? ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ১০ এপ্রিল গঠিত হলো প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার, বা মুজিবনগর সরকার। মানে, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও সরকারের সমন্বয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দাঁড়িয়ে গেল। অর্থাৎ, পাকিস্তান তখন আর আমাদের দেশ নয়, সাক্ষাত বিদেশ। তার মানে, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি’ হিসেবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন বিদেশের জেলে ছিলেন। স্বাধীন দেশে তার ফিরে আসা তো এক প্রবাসীর প্রত্যাবর্তনই হলো, না কি!

জাতিসংঘের পপুলেশন ডিভিশনের ২০১৭ সালের সর্বশেষ ডাটা অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রবাসীর সংখ্যায় ১৬.৬ মিলিয়ন নিয়ে ভারত প্রথম, বাংলাদেশ ৭.৫ মিলিয়ন নিয়ে পঞ্চম। বাংলাদেশ তার প্রবাসীদের অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাছে অনেকটাই দায়বদ্ধ। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই, প্রবাসীদের সম্মানে ‘প্রবাসী বাংলাদেশি দিবস’ উদযাপন হওয়া উচিত। আর তা পালনের জন্য ১০ জানুয়ারির চেয়ে উত্তম দিন কীইবা হতে পারে!

মনে করিয়ে দেওয়ার মতো বিষয় হলো, শুধু বঙ্গবন্ধুই পাকিস্তানের জেলে থাকার সুবাদে ‘অনিচ্ছাকৃত’ প্রবাসী হননি। তিনি নিজেও একটি ডায়াসপোরা পরিবারের লিগ্যাসি রেখে গেছেন। তার হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে তার জ্যেষ্ঠ কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন সপরিবারে প্রবাসে ছিলেন। শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের রাজনীতি সক্রিয় থাকলেও, তিনি নিজেও প্রবাসী। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা, একদার আরেক প্রবাসী শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকীও প্রবাসী রাজনীতিক। ঠিক এ কারণেই, গবেষণা প্রবন্ধের এক জায়গায় আমি লিখেছিলাম, “A full family, with having a phenomenon of chain Diasporic life and contributing to a political dynasty, should be an interesting aspect to do further research.”

এটা গেল বাংলাদেশে ডায়াসপোরিক রাজনীতির একটা দিক। ডায়াসপোরাদের একটা অংশ যেমন দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন বা অতীতেও ছিলেন কিংবা ভবিষ্যতেও অনেকে থাকবেন; তেমনি অনেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও সক্রিয় আছেন। টিউলিপ সিদ্দিকীর মতোই যেমন যুক্তরাজ্যের রাজনীতি দাঁড়িয়ে গেছেন রুশনারা আলী, রূপা হক ও আফসানা বেগম। যুক্তরাজ্যেই আছেন ব্যরিস্টার মেরিনা মাসুমা আহমেদ, বাবলিন মল্লিক, ডা. আনোয়ারা আলী, নূরুল হক আলী, আখলাক খান প্রমুখ। যুক্তরাষ্ট্রে আছেন হানেশম হাশেম ক্লার্ক, শেখ রহমান চন্দন, এমডি নাসের, নিনা আহমেদ, মোহাম্মদ হাসান, ড. রশীদ মালিক, নাবিলা ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসাইন, জসীম উদ্দীন, শানিয়াত চৌধুরী, প্রমুখ। তথ্যের খাতিরে, এই দু’টি দেশের ওপর নজর বেশি থাকে বলে এই নামগুলো লেখা হলো। এরকম নাম আরও বিস্তৃত করা যাবে, যারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হয়ে প্রবাসে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় আছেন।

প্রবাসীদের আরেকটি দিক হলো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থেকেও, সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে তাদের অবদান। প্রবাসীদের রেমিটেন্সের বিষয়টি তো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বহুল চর্চিত ও আলোচিত বিষয়। এটা মাথায় তো রাখতেই হবে। পাশাপাশি আরও কিছু অবদান মনে করিয়ে দেই, যেগুলো আমরা ইতোমধ্যেই জানি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা প্রচার চালিয়েছেন, দেশের স্বীকৃতি চেয়েছেন, তহবিল গঠন করেছেন – এগুলো যেন আমরা স্মরণে রাখি। জর্জ হ্যারিসনের পৃথিবী বিখ্যাত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশে’র আয়োজক ছিলেন যারা – পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও আলী আকবর খান – তারা ভারতীয় বাঙালি হলেও, পূর্বপুরুষের ভিটে পূর্ব বাংলাই ছিল। ১৯৬৯ সালের ২৩ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু লন্ডন গিয়েছিলেন প্রবাসীদের বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন ও ক্যাম্পেইন করার আহবান জানাতে। এর আগে এ প্রবাসীরাই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্থানীয় আইনজীবীদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার থমাস উইলিয়ামসকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি যে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে সারা বিশ্বের স্বীকৃতি লাভ করেছে, তাও দু’জন কানাডা প্রবাসী – রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম – তাদের উদ্যোগের ফল।

এভাবে, প্রবাসীরা দেশের প্রতি অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু, বাংলাদেশে প্রবাসীদের মোটাদাগে ‘এলিট’ ও ‘আদার’ হিসেবে কটূ চোখে দেখার একটা অপ-প্রবণতা আছে। তারা দেশের জন্য কিছু করেন না বলে অপবাদও আছে, যেগুলো আসে প্রপাগান্ডার মতোই শোনায়। এই দূরত্ব দূর করতে হবে। তবে, তাদেরকে আরও বেশি অবদানের মাধ্যমে পেতে চাইলে, যিনি যে-ই সেক্টরে আছেন, তাকে সেভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ রাষ্ট্রীয়ভাবেই নিতে হবে। তারা কীভাবে বাংলাদেশের জন্য সারা বিশ্বে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিকভাবে কাজে লাগতে পারেন, তা ভাবতে হবে। বিশ্ব রাজনীতিতে তারা হতে পারেন বাংলাদেশের লবিস্ট। উদাহরণ হিসেবে বলি, ভারত যে জাতিসংঘ/রাষ্ট্রসংঘের ‘নিরাপত্তা পরিষদে’র স্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য অনেকটাই ফেবারিট হিসেবে নিজেকে ভাবতে শুরু করেছে, তার অন্যতম কারণ দেশটির ডায়াসপোরা লবিস্টরা। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয় হিসেবেও ডায়াসপোরা গবেষণা এখন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে ফেলেছে।

বিশ্বায়নের যুগে রাজনীতি শুধু দেশের বলয়ে আটকে নেই। বলয় পৃথিবীতেও আটকে নেই। ছড়িয়ে পড়েছে মাটি-পানি-বায়ু সর্বত্র। সেজন্যই তো আপনার হাত প্রশস্থ ও প্রস্তুত থাকতে হবে সর্বত্র। অতএব, এসব মাথায় রেখে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার তো প্রতি দু’ বছর অন্তর ‘প্রবাসী বাংলাদেশি দিবস’ আয়োজন করে প্রবাসীদের স্বাগত জানাতেই পারে। এই উদ্যোগে সবচেয়ে লাভবান হবে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প। আর দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের একটা আত্মিকবন্ধন তো তৈরি হবেই। খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, আমার মতে, এ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই একটা জায়গায় বিশেষ সুবিধা পেয়ে গেছে। সেটা হলো, ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান’ নামে বাংলাদেশে খোদ একটি মন্ত্রণালয়ই আছে। ভারতে প্রবাসী দিবস আয়োজন করে বিদেশ/পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অথচ, বাংলাদেশে আছে প্রবাসীদের কল্যাণে একটি ‘এক্সক্লুসিভ’ মন্ত্রণালয়!

৩.

এখন, প্রশ্নটা হলো, সরকার ১০ জানুয়ারিকে এভাবে পালন করতে চাইবে কি না? চাইলে আগামী বছর যখন ‘মুজিব বর্ষ’ শেষের পথে থাকবে, তখন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘বঙ্গবন্ধু ডায়াসপোরা ডে’ কিংবা ‘বঙ্গবন্ধু ডায়াসপোরা রিটার্ন ডে’ বা ‘বঙ্গবন্ধু প্রবাসী (প্রত্যাবর্তন) দিবস’ আয়োজন করে দিনটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলা যেতে পারে। আর যদি ১০ জানুয়ারিকে এভাবে উদযাপন করতে না চায়, তাহলে বিকল্প হলো ১৭ জানুয়ারি। এই দিনেই দেশকে স্বাধীন করার প্রত্যয়ে প্রবাস জীবনের উদ্দেশে ঘর ছেড়েছিলেন বাংলার আরেক বিশ্বমূর্তি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস।

এখানে ছোট্ট করে বলা উচিত, বঙ্গবন্ধুর প্রথম ‘আদর্শিক গুরু’ নেতাজির স্মৃতির সম্মানে বলতে গেলে কিছুই করা হয়নি বাংলাদেশে। অথচ, শুধু পশ্চিম বাংলায় নন, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মতো তৎকালীন পূর্ববাংলাতেও বিপুল জনপ্রিয় ছিলেন ভারতের প্রবাসী সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তথা আজাদ হিন্দ ফৌজের কমান্ডার-ইন-চিফ। বাংলাদেশ যেহেতু তখন অখণ্ড ভারতেরই অংশ ছিল, ফলে তিনি তো আসলে আমাদেরও প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার সম্মানে অন্তত রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছু করার উদ্যোগ অবশ্যই নেওয়া প্রয়োজন বাংলাদেশে।

বঙ্গবন্ধু নিজেও নেতাজির প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে তিনি লিখেছেনও, ‘‘আমাদেরও ইংরেজের বিরুদ্ধে একটা জাত ক্রোধ ছিল। হিটলারের ফ্যাসিস্ট নীতি আমরা সমর্থন করতাম না, তথাপি যেন ইংরেজের পরাজিত হওয়ার খবর পেলেই একটু আনন্দ লাগত। এই সময় নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে ভারতবর্ষের হিন্দু ও মুসলমান সৈন্যদের দলে নিয়ে ইংরেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। মনে হত, ইংরেজের থেকে জাপানই আমাদের আপন। আবার ভাবতাম, ইংরেজ যেয়ে জাপান আসলে স্বাধীনতা কোনোদিনই দিবে না। জাপানের চীন আক্রমণ আমাদের ব্যথাই দিয়েছিল। মাঝে মাঝে সিঙ্গাপুর থেকে সুভাষ বাবুর বক্তৃতা শুনে চঞ্চল হয়ে উঠতাম। মনে হত, সুভাষ বাবু একবার বাংলাদেশে আসতে পারলে ইংরেজ তাড়ান সহজ হবে।” বঙ্গবন্ধুর কাছে নেতা হিসেবে এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন নেতাজি, এতোটাই গুরুত্ববহ ছিল তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন!

বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। গহীন শ্রদ্ধা ‘বীরের বেশে’ স্বদেশে ফিরে আসতে না পারা, চিরবিপ্লবী নেতাজির প্রতিও!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close