ক্রিকেটখেলাধুলা

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছারখার করে দিয়েছিল বাংলাদেশ : ডু প্লেসিস

ক্রীড়া ডেস্ক: ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে অভিষেকের পর সে বছর মার্চেই বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে প্রথম এসেছিলেন। তারপর গত ৯ বছরে বাংলাদেশকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৮ ওয়ানডে, ২ টি-টোয়েন্টি এবং ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৪ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। কাজেই টাইগারদের অ্যাপ্রোচ, অ্যাপ্লিকেশন আর শরীরী ভাষা খুব ভাল বোঝেন তিনি।

নয় বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের সঙ্গে তার খেলা প্রথম ও শেষ ওয়ানডের চালচিত্র ও ফলে বিস্তর ফারাক। ২০১১ সালে বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপে ডু প্লেসিস যখন টাইগারদের সাথে প্রথম খেলেন, সে ম্যাচে পাত্তায়ই পায়নি টাইগারারা।

এবি ডি ভিলিয়ার্স বাহিনীর করা ২৮৪ রানের জবাবে ৭৮ রানে অলআউট হয়ে হেরেছিল ২০৬ রানের বিরাট ব্যবধানে। যে দলকে ৯ বছর আগে তাদের দেশের মাটিতে গুঁড়িয়ে শুরু, সেই টাইগারদের কাছে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ২১ রানে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকানরা এবং সেটা ডু প্লেসিসের অধীনেই।

এ দীর্ঘ সময়ে টাইগারদের কী কী পরিবর্তন ঘটেছে? দল হিসেবে কি কোন উন্নতি হয়েছে? হয়ে থাকলে সেটা কেমন? বুধবার ফেসবুক লাইভে ফাফ ডু প্লেসিসের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তামিম।

সঞ্চালক তামিমের প্রশ্ন ছিল, ‘আচ্ছা ফাফ, তুমি তো সেই ২০১১ সাল থেকেই আমাদের দেখছ, খেলেছও বেশ। সেই দেখা ও খেলার অভিজ্ঞতার আলোকে বলো দেখি আমাদের এখন কেমন দেখছ?’ উত্তর দিতে গিয়ে অকৃপণ ডু প্লেসিস। কোনরকম ভনিতা না করে সোজা জানিয়ে দিলেন, ‘আগের চেয়ে অবশ্যই দল হিসেবে অনেক সমৃদ্ধ এখন বাংলাদেশ।’

দল হিসেবে উন্নতিটাই তার চোখে পড়েছে বেশি। টাইগারদের আগের সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা সময় বাংলাদেশ দল ছিল ব্যক্তিনির্ভর। দু-একজন পারফরমারের ওপর ভর করেই আবর্তিত ছিল পুরো দল। দু-একটি উইকেটের পতন ঘটলেই তালগোল পাকিয়ে যেত। কিন্তু সময়ের প্রবহতায় এখন আর তা নেই। এখন আর বাংলাদেশ হাতে গোনা কজনার ওপর নির্ভরশীল দল নয়। বেশ কজন পারফরমার উঠে এসেছে। টিম পারফরমেন্সও ভাল হয়েছে।’

এছাড়া আরও একটি পার্থক্য তার চোখে পড়েছে, ‘আগে বোলিংটা ছিল স্পিনকেন্দ্রিক। অনিবার্যভাবে সাকিব একাই যা করার করতেন। এখন তার সঙ্গে আরও কোয়ালিটি স্পিনার চলে এসেছে। পাশাপাশি পেসাররাও ভাল বোলিং করছে। এটা তোমাদের জন্য ভাল হয়েছে। কারণ উপমহাদেশের বাইরে খেলতে গেলে সিমারদের কার্যকরিতা দরকার। সেটাও হয়েছে।’

বর্তমান দলটির ব্যাটিংয়ের উচ্ছসিত প্রশংসা ডু প্লেসিসের মুখে, ‘এখন তোমাদের (তামিমকে ইঙ্গিত করে) ব্যাটিং দারুণ উপভোগ করছি। তুমি তো এখন দেশের বাইরেও যার সঙ্গে খেলছ হান্ড্রেড করছ।’

সবশেষে টাইগারদের ২০১৯ বিশ্বকাপের পারফরমেন্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান শুধু প্রশংসাই করেননি, অকপটে স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টিম পারফরমেন্স, সাকিবসহ অন্যান্য ক্রিকেটারদের নৈপুণ্যের দ্যুতি তাকে অবাক করেছে। তিনি ভাবেননি বাংলাদেশ এত ভাল খেলতে পারে বা পারবে।

তাই তো মুখে এমন বিস্ময়সূচক মন্তব্য, ‘সত্য বলতে কি বিশ্বকাপে তোমাদের পারফরমেন্স আমার খুব ভাল লেগেছে। বলতে পারো আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমার চিন্তাভাবনার চেয়ে অনেক বেশি ভাল খেলেছ। সত্যি আমার বেশ অবাকই লাগছে তোমার ব্যাটিং দেখে। কারণ আমি আগে দেখতাম তোমাদের পারফরমেন্স অনেক ওঠা নামা করত। এক ম্যাচে ভাল খেলে পরের খেলাতেই আবার গড়পড়তা পারফরমেন্স। কিন্তু এখন সে ধারা পাল্টেছে। এখন তোমরা অনেক বেশি ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলছ। নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপের অন্যতম ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলা দল ছিলে তোমরা। তোমাদের ব্যাটিং ছিল খুবই ভাল এবং প্রশংসনীয়।’

একদম শেষ বাক্যটিতে আর ছিল না কোন বিস্ময়। হেসে বলেন, ‘তোমরা প্রতি খেলাতেই জ্বলে উঠেছ এবং আমাদের (দক্ষিণ আফ্রিকাকে) পুড়িয়ে ছেড়েছ।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close