অর্থনীতি

কনটেইনার ডেমারেজে আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক: লকডাউন চলাকালীন বিদেশি শিপিং কোম্পানি ও তাদের এ দেশীয় এজেন্টদের অনিয়ন্ত্রিত কনটেইনার ডিটেনশন/ডেমারেজ চার্জ আরোপের ফলে উৎপাদনমুখী শিল্পের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা বিশ্ববাজারে রফতানি সক্ষমতাকে হ্রাস করছে। অন্যদিকে স্থানীয় ভোক্তাদের জন্য আমদানি করা পণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শিল্প ও জনগণের স্বার্থে শিপিং কোম্পানির ডেমারেজ মওকুফসহ অফ-ডকে খালি কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রেন চার্জ মওকুফের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শনিবার ডিসিসিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার সমুদ্র বন্দরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। তবুও অন্য সেবা খাতের অনেকাংশই বন্ধ বা সীমিত থাকায় পণ্য বা কনটেইনার খালাসে অনিচ্ছাকৃত দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। লকডাউন চলা অবস্থায় কিছু বিদেশি শিপিং কোম্পানি ও তাদের এ দেশীয় এজেন্ট আমদানিকারকদের ওপর তাদের মর্জিমতো অতিরিক্ত কনটেইনার ডিটেনশন বা ডেমারেজ চার্জ আরোপ করছে।

কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় শিপিং কোম্পানিগুলো/এজেন্ট বা তাদের মনোনীত ফ্রেইট ফরওয়াডার্সরা এ অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করতে পারছে। এ কারণে উৎপাদনমুখী শিল্পের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে রফতানি সক্ষমতাকে হ্রাস করছে। স্থানীয় ভোক্তাদের জন্য আমদানি পণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভারত, নিউজিল্যান্ড শিপিং কোম্পানির ডেমারেজ মওকুফ করেছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৯ এপ্রিল নৌপরিবহন অধিদফতর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিপিং লাইন্সগুলোকে বা তাদের মনোনীত এজেন্টদের আমদানিকারকদের ওপর লকডাউন চলাকালে কোনো প্রকার ডেমারেজ চার্জ আরোপ না করতে নির্দেশনা দেয়। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি জারি করা সত্ত্বেও শিপিং কোম্পানিগুলো কনটেইনার ডেমারেজ চার্জ আরোপ অব্যাহত রেখেছে। যা এ কঠিন সময়ে আমদানিকারকদের ওপর বাড়তি বোঝা হিসেবে নিপতিত হচ্ছে।

ডিসিসিআই’র মতে, লকডাউন চলাকালীন শিপিং লাইন্স বা এজেন্টদের কনটেইনার ডেমারেজ চার্জ আরোপ না করা উচিত এবং নতুন করে বা অতিরিক্ত চার্জ আরোপ থেকেও বিরত থাকা উচিত। ‘পোর্ট অর্ডিনেন্স ১৯৭৬’ মোতাবেক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাছাড়া বিদেশি শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে আমাদানি-রফতানি পণ্যের জাহাজীকরণের সময় যৌক্তিক ও যথোপযুক্ত হারে কনটেইনার ডেমারেজ চার্জ নির্ধারিত হতে পারে।

ডিসিসিআই মনে করে, সর্বোচ্চ কনটেইনার ডেমারেজ চার্জ কত হতে পারে তার একটি সুনির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কেননা মাঝে মধ্যে কনসাইনমেন্ট বা চালানের মোট মূল্যের চেয়ে ডেমারেজ চার্জ বেশি নির্ধারিত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অর্ডিনেন্স ১৯৮৩-এর ৭৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা যেতে পারে। যার ফলে আমদানিকারকদের ওপর তাদের পূর্বানুমোদন ছাড়া শিপিং লাইন্সগুলো তাদের মর্জিমতো ডেমারেজ চার্জ আরোপ করতে পারবে না।

ভারত ও নিউজিল্যান্ড তাদের শিপিং লাইন্সগুলোকে ইতোমধ্যে লকডাউন পরিস্থিতি বিবেচনায় তৃতীয় পক্ষ আমদানিকারকদের ওপর ডেমারেজ চার্জ আরোপ না করতে অনুরোধ জানায়। সে মোতাবেক শিপিং লাইন্সগুলো নির্দেশনা মেনে আমদানিকারকদের চার্জ মওকুফ করে চিঠি দিয়েছে।

একই সঙ্গে বেসরকারি আইসিডি/অফ-ডক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লকডাউন চলাকালীন খালি কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ও রফতানি পণ্য কনটেইনারে লোডিং চার্জ মওকুফ করার আহ্বান জানিয়েছে ডিসিসিআই। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন বন্দর সম্পর্কিত চার্জগুলো যেমন ক্রেন চার্জ, লোডিং, আনলোডিং চার্জ, কনটেইনার ডিসচার্জিং চার্জ কমানোর আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close