দেশজুড়ে

মধ্যবিত্তদের ঘরে ঈদ উপহার পৌছানোয় কিশোরগঞ্জে যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রা।

হুমায়ুন কবির  কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: রুপকথার গল্পকেও হার মানালেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
অন্ধকার যত গাঢ় হয়, আলোর ঝলকানি নাকি ততই নিকটবর্তী হতে থাকে। হাজার বছরের জমে যাওয়া অন্ধকার দূর করতে যদিও এক চিমনী আলো যথেষ্ট নয় তবুও সেই আলোর ঝলকানি অন্ধকারে লড়াই করে বেচে থাকা মানুষের মনে এক বুক আশা ও অফুরন্ত শক্তির সঞ্চার করে। সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত যে লড়াই সে লড়াইয়ে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখানো সেই এক চিমনী আলোকে হয়তো সময়ের পরিক্রমায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ ভুলে যায় তবে তার ঋন বোধ করি এক সূর্যের আলোর বিনিময়েও শোধ করা যায় না৷
গত দুইমাসের লকডাউনে মানসিক এবং আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যাতিক্রমী এক পদ্ধতিতে নিন্মবিত্ত ও নিন্মমধ্যবিত্তদের ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া হচ্ছে ঈদ উপহার । খবর পেয়ে সরেজমিনে বিভিন্ন সংবাদকর্মীদের খবর সংগ্রহকালীন তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে আজকের এই প্রতিবেদনে।
খুব ছোটবেলায় কারো বাড়ির বন্ধ দরজায় টোকা দিয়ে দৌড়ে পালানোর মাধ্যমে বাড়ির লোকেদের বিব্রত করে যে সুখ পাওয়া যেত তার চেয়ে হাজার গুন বেশি সুখ পাওয়ার আমাদের আজকের গল্পের নায়ক আধুনিক কিশোরগঞ্জ পৌরসভা বিনির্মাণের মূলহোতা ও কিশোরগঞ্জের স্বপ্নবাজ, মাদকমুক্ত তারুণ্য চাই- কিশোরগঞ্জ জেলার উপদেষ্টা,  হাজারো তরুনদের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে খ্যাত  প্রকৌশলী মোঃ শরীফুল ইসলাম (শরীফ) । বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কিশোরগঞ্জ জেলার সন্মানিত সভাপতি ও একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ১০ বছরের সাবেক সফল সাধারন সম্পাদক ।
গল্পের শুরুটা কীভাবে সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংবাদকর্মীদের তার চিরায়ত হাসিমুখ ও স্বভাবসুলভ বিনয় প্রকাশ করে বলেন:
“ধরুন আপনার অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালানোর কোন উপকরণ আপনার কাছে নেই, কাউকে বলতেও পারছেন না আবার নিজের চেষ্টায় যোগাড়ও করতে পারছেন না। অজানা আতঙ্ক আর শঙ্কায় ক্রমেই আপনার চোখ মুখ শুকিয়ে আসছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই আপনার দরজায় আপনি কাউকে কড়া নাড়তে শুনলেন এবং যথারিতি আপনি দরজা খুলে দেখলেন কে বা কারা যেন দরজার সামনে আপনার ঘরে আলো জ্বালানোর উপকরণ উপহার হিসেবে রেখে গিয়েছে। এই অবস্থায় আপনি যে স্বস্তি, আনন্দ, ভরসা আর সাহস পাবেন সেই ব্যাপারটাই আমাদের অনেক বেশী আনন্দিত করবে।
তিনি বলছিলেন আর আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। এরমধ্যেই স্বেচ্ছাসেবকদের কর্মতৎপরতায় আমাদের মুগ্ধতা কাটিয়ে কিছু সময়ের জন্য আমরাও নিজেদের এমন কাজের সহযোগী হিসেবে সংযুক্ত করে নিলাম। বেশ কিছু খাবারের প্যাকেট আমরাও গুছিয়ে দেয়ার প্রাক্কালে খেয়াল করলাম ঈদ উপহার লেখাটির নিচে একটি অসম্ভব ভালো ও অনুপ্রেরণাদায়ক উক্তি যাতে লিখা- দান নয়: এটা আপনার অধিকার। লেখার উপরে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মরহুম সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সবচেয়ে সফলতম সাবেক সাধারন সম্পাদক সদ্যপ্রয়াত মরহুম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও উনাদের সুযোগ্য উত্তরসূরি কিশোরগঞ্জ -১ আসনের মাননীয় সাংসদ ডাঃ সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির ছবিসহ সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে শুভেচ্ছাবানীটুকু যে কাউকে মোহিত করে তুলবে।
নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে এভাবে নিজেকে প্রচার বিমুখ করে তোলার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন: আসলে দেখেন আমি প্রচারবিমুখ এই কথাটা সত্য হলে নিশ্চয়ই আপনাদের সাথে কথা বলতাম না। হ্যা এটা ঠিক যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রচারের চেয়ে সমস্যার সমাধানে কাজ করাকে আমি বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি। মৃত্যুর ফেরেশতা যখন আপনার ঘাড়ে নিঃশাস নিচ্ছে এমন সময়ও নিশ্চয়ই আপনি লোক দেখানো বা লৌকিকতা কে প্রাধান্য দিবেন না। বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই যখন কারো জন্যে আপনি কিছু করবেন তখন আল্লাহ সন্তুষ্টও হবেন পাশাপাশি আপনার নেক কাজকে আল্লাহ প্রকাশও করে দিবেন৷ যাকে ধর্মের পরিভাষায় বলে মুমিনের নগদ পুরস্কার। আর এই বিষয়ের জ্বলন্ত প্রমান তো আপনারাই।
প্রায় পৌনে দুইঘন্টার আলাপনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি আরো জানান,
আপাতত এভাবেই মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাওয়া। অন্যন্য বিষয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পরে হবে। এখন আমাদের কাছে মানুষের জীবন ও জীবিকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷
আমাদের জানামতে এবং বিভিন্ন জরিপে আপনার অবস্থানের ব্যাপারে সবাই আশাবাদী এই কথার জবাবে তিনি স্বভাবসুলভ হাসিমুখে যেন বলতে চাইলেন,  আল্লাহ চাইলে মানুষের আশা অবশ্যই পূরন হবে৷
ফেরার পথে চিরচেনা ব্যস্ত শহরের নিঃস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে কল্পনার চোখে দেখা স্বপ্নের সেই কিশোরগঞ্জে পরিবর্তন এর যে হাওয়া লেগেছে বলে মন সায় দিচ্ছিলো তা আজকে হয়তো কাল্পনিক কোন অলৌকিক গল্প মনে হলেও খুব তাড়াতাড়িই সেটা সত্যিকারের গল্পকেও হার মানাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close