আইন-আদালতজাতীয়

আগুনে ৫ জনের মৃত্যু : ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চেয়ে রিট

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। রিট আবেদনে আগুনে পুড়ে ৫ জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং নিহতদের পরিবারকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫ জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন হত্যা মামলা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদোয়ান আহমেদ রানজীব ও ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ জনস্বার্থে আজ সোমবার এ রিট আবেদন দাখিল করেন।

রিট আবেদনে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি অস্থায়ী আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে। মূল ভবনের পাশে অস্থায়ী ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়। তবে আইসোলেসন সেন্টারে রোগীদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ।

গত ২৭ মে রাতে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এসি বিস্ফোরণের আগুনের সূত্রপাট ঘটে। ফায়ার সার্ভিস আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন চারজন পুরুষ এবং একজন নারী। মৃত ব্যক্তিরা হলেন-মাহবুব এলাহি চৌধুরী (৫৭), মো. মনির হোসেন (৭৫), ভেরুন এ্যান্থনী পল (৭৪), খাদেজা বেগম (৭০) এবং রিয়াজুল আলম লিটন(৪৫)।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক দেবাশীষ বর্ধনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থর পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশিষ বর্ধন বলেন, আইসোলেসন সেন্টারে রোগীদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখা হয়েছিল। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। যারা মারা গেছেন তারা ঠিক সানশেডের নিচে মারা গেছেন। আগুনের সময় করোনা রোগীরা খুবই অসহায় ছিল। তবে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ওই ঘটনায় গুলশান থানায় একটি ‘অপমৃত্যু’র মামলা করেছে বলে জানা গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close