ক্রিকেটখেলাধুলাজাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মাশরাফি

করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসাতে আইসোলেশনে আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। মাশরাফির ব্যবস্থাপত্র করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ।

সোমবার (২২ জুন) গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিউজমউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

প্রধান নির্বাহী বলেন, মাশরাফির ব্যাপারটা যতদূর জানি, বিসিবি সভাপতি আব্দুল্লাহ স্যারের (প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসক) সঙ্গে কথা বলেছেন। তার প্রেসক্রিপশন পাঠানো হয়েছে। মাশরাফি তো এমপিও। তার ব্যাপারটা ভিন্ন। কিন্তু যখন বিপদ হয়, সংসদ সদস্য দেখে হয় না। মানসিকভাবে সবাই ধাক্কা খায়। তখন তার পাশে সবারই থাকা উচিত। কাল রাতে শুনলাম ভালো আছে, হাসিখুশি আছে।

বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, মাশরাফির ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন। তার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

আজ সোমবার মাশরাফির ছোট ভাই মোরসালিন বিন মুর্তজা বলেন, ভাইয়ের অ্যাজমার সমস্যা আগে থেকেই আছে। তারপরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি। এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল, বলার মতো কোনও উপসর্গ নেই।

তিনি বলেন, করোনা হলে যেটা হয় বুকে চাপ ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হয় সেটা হয়নি। তবে ভাইয়ার যেহেতু অ্যাজমার সমস্যা আছে তাই আমরা এটা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু এই মুহূর্তে সামান্য কাশি ও শরীর ব্যথা রয়েছে। আপাতত ভাইয়াকে নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

করোনার উপসর্গ থাকায় গত শুক্রবার পরীক্ষা করিয়েছিলেন মাশরাফি। শনিবার দুপুরে জানতে পারেন তিনি কোভিড-১৯ পজিটিভ। অবশ্য সংক্রমণের শুরু থেকেই নিজ এলাকায় জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন নড়াইল-২ আসনের সদস্য। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবারই নড়াইল যেতে হয়েছে তাকে। এখন মাশরাফি নিজেই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার দিন-ই নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেজে সবার কাছে দোয়া চেয়ে লিখেছিলেন, ‘আজকে আমার রেজাল্ট COVID-19 পজিটিভ এসেছে। সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন, যাতে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে পারি। আমি বর্তমানে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিয়ে যাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ মেনে চলছি।’

মাশরাফির সঙ্গে ছোট ভাই মোরসালিন ও তার স্ত্রী থাকেন। করোনা নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় থাকায় অন্য বাসায় উঠেছেন মোরসালিন।

রবিবার তিনি এবং তার স্ত্রী করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাও দিয়েছেন। আগামীকাল ফলফল পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

তিনি বলেন, আমি কিছুটা কনফিউশনে আছি। এই কারণে বাসাটা ছেড়ে অন্য জায়গায় উঠেছি। করোনার পরীক্ষা করতে দিয়েছি, ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। ভাইয়ার সঙ্গে ভাবি ও বাচ্চারা আছে। ভাইয়া আলাদা রুমে আইসোলেশনে আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close