দেশজুড়ে

নাটোরের লালপুরে পাট চাষীদের লোকসানের আশঙ্কা

মেহেরুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধিঃ  বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। যাকে সোনালী আঁশ বলা হয়ে থাকে এবং পাট-ই বাংলাদেশের শতবর্ষের ঐতিহ্য বাহন করে আসছে যুগ যুগ ধরে।বহির্বিশ্বে বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট দিয়ে তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাস্তবতা হলো,বছরের পর বছর দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে লোকসান গুনার কারণে পাটকলগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা হয়। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার পাটের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আছেন পাট চাষিরা। আর পাটের চাহিদা কমে গেলে পাটের দামও কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যা বাস্তবে রূপ নিলে লোকসানের মুখে পড়বে এসব চাষিরা।
তেমনি সারাদেশের ন্যায় আসছে মৌসুমে পাটের ন্যায দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে নাটোরের লালপুর উপজেলার পাট চাষীরাও।
তেমনি একজন লালপুর উপজেলার দুড়দুড়ীয়া ইউনিয়নের গন্ডবিল গ্রামের পাটচাষী আলতাব হোসেন গত কয়েক বছর ধরে অন্য ফসলের তুলনায় পাটের দাম ও চাহিদা ভালো থাকায় দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন তিনি।ফলনও হয়েছে  ভালো। তবে এবার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করায় ভালো দাম না পাওয়ার  আশঙ্কায় আছেন তিনি।
কৃষি সরঞ্জামসহ কীটনাশক, ভিটামিন ও জৈব সারের দাম বেশি হওয়ায় পাট উৎপাদন খরচ বেশি।তার ওপর বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতী  করোনা ভাইরাসের কারণে পাটের দাম কেমন হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছেন মনিহারপুর  এলাকার আরেক কৃষক আশরাফ আলী।
এছাড়া একাধিক পাটচাষী জানান, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা ক্ষেতে ফসল ফলান। বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই, সাথে কীটনাশক, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ ইত্যাদির চড়া মূল্য। তবে এতসব সংকট মোকাবিলা করে ফসল ফলিয়েও কৃষকেরা যদি ফসল বিক্রি করে ভালো দাম না পায় তবে পাট চাষে আগ্রহ হারাবে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে প্রবীন সাংবাদিক আব্দুর রশিদ মাষ্টার  জানান,কৃষি প্রধান বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট দিয়ে তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকার করনে পাটকে বাংলাদেশের স্বর্ণসূত্র বলা হতো যার কারনে পাটের সোনালী আঁশ দিয়ে তৈরি বস্তা,চট,দড়ি,ব্যাগ,বাহারি পাপোশ/পা দানি সহ রং-বেরঙের পাটের শাড়ি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করে সিংহভাগ বৈদেশিক স্বর্ণমুদ্রা অর্জণ করা হতো।কালের বির্বতনে প্লাস্টিকের উৎপাদিত পন্যর ব্যাপক ব্যাবহারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা বর্তমানে অনেক কম।
অপর দিকে বছরের পর বছর দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর লোকসানের ফলে বন্ধ হয়ে আছে পাটকল গুলো। এর প্রভাব পাট চাষ, পাটচাষী ও পাটের দামের ওপর পড়বে বলে মনে করেন তিনি৷
এছাড়াও উৎপাদিত পাটের আঁশের প্রায় ৫১ শতাংশ পাটকলগুলোয় ব্যবহৃত হয়, ৪৪ শতাংশের মতো কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি হয় এবং মাত্র ৫ শতাংশের মতো লাগে ঘর-গৃহস্থালি আর কুটিরশিল্পের কাজে।কিন্ত পাটকল গুলো  বন্ধ থাকার কারণে এ বছর পাটের দাম কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।যা প্রতিফলিত হলে পাট চাষীদের লোকসানের আশঙ্কা থেকে যায়। তাছাড়া পাটের পাতা জমিতে উর্বরতা বৃদ্ধি করে ফলে পাট উৎপাদন কমে গেলে প্লাস্টিক বা পলিথিনের চাহিদা বেড়ে যাবে।যার বিরূপ প্রভাবে পরিবেশ নষ্ট হবে বলে মনে করেন তিনি।
লালপুর উপজেলার উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা দূর্জয় হোসেন জানান, উপজেলায় এবছর ১১,৬১০ একর জমিতে পাট চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১০,১০০.৭০। যা গত বছরের থেকে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কৃষকরা যখন যে ফসলে লাভ বেশি পায় তখন তারা সে ফসলের উপর ঝুঁকে পড়ে। তাই আগামীতে কি পরিমাণ পাট চাষ হবে তা নির্ভর করবে পাটের দামের ওপর।
এছাড়া সরকার গত বছরের থেকে এবছর আরো বেশি পাট রপ্তানি করতে পারলে দেশের বাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের প্রভাব পড়বে না বলে জানান স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close